1. হোম
  2. প্রাণায়াম
  3. সূর্যভেদন (ডান নাসিকা শ্বাস)

সূর্যভেদন প্রাণায়াম (ডান নাসিকা শ্বাস): পদ্ধতি, উপকারিতা ও সতর্কতা

সূর্যভেদনে শুধু ডান নাক দিয়ে শ্বাস নেন আর বাঁ নাক দিয়ে ছাড়েন। ওপরের টাইমার ৪ গুনে নেওয়া ও ৬ গুনে ছাড়া গোনে এবং প্রতিবার নাকটি দেখায়।

Seated breathing posture
Ready

Surya Bhedana timer

Breathe in for 4, breathe out for 6 seconds. The labels show which nostril to use.

কীভাবে করবেন, ধাপে ধাপে

  1. খালি পেটে সুখাসন, পদ্মাসন বা চেয়ারে সোজা হয়ে বসুন। কাঁধ শিথিল করে চোখ বন্ধ করুন।
  2. বাঁ হাত চিন মুদ্রায় বাঁ হাঁটুর ওপর রাখুন। ডান হাত বিষ্ণু মুদ্রায় আনুন: তর্জনী ও মধ্যমা ভাঁজ, বুড়ো আঙুল ও অনামিকা প্রস্তুত।
  3. অনামিকা দিয়ে বাঁ নাক বন্ধ করে ডান নাক দিয়ে ধীরে ৪ গুনে শ্বাস নিন।
  4. বুড়ো আঙুল দিয়ে ডান নাক বন্ধ করুন, অনামিকা সরিয়ে বাঁ নাক দিয়ে ধীরে ৬ গুনে শ্বাস ছাড়ুন।
  5. পুনরাবৃত্তি করুন: সবসময় ডান দিয়ে নেওয়া, বাঁ দিয়ে ছাড়া। প্রতিটি শ্বাস নেওয়ায় টাইমার “Right nostril” হাইলাইট করে।
  6. শ্বাস নিঃশব্দ ও মসৃণ রাখুন। শুরুতে ৯ রাউন্ড করুন (প্রায় দেড় মিনিট)।
  7. হাত নামিয়ে ওঠার আগে এক মিনিট দুই নাক দিয়ে স্বাভাবিক শ্বাস নিন।

উপকারিতা

  • উষ্ণতা ও শক্তি অনুভূত হয়; ঐতিহ্যগতভাবে শীতের সকালে বা ঝিমুনি লাগলে করা হয়
  • ছোট কিছু গবেষণা বলছে, ডান নাসিকা শ্বাস হৃৎস্পন্দন ও সতর্কতা সামান্য বাড়ায়
  • ঐতিহ্যগতভাবে বলা হয়, এটি হজমে সাহায্য করে এবং আয়ুর্বেদে বাত (বায়ু) দোষের ভারসাম্য রাখে
  • একটি নির্দিষ্ট ধরন মেনে চলতে হয় বলে শ্বাস-নিয়ন্ত্রণ ও একাগ্রতা বাড়ায়

সতর্কতা

  • উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা মৃগী থাকলে এড়িয়ে চলুন, এবং এসব থাকলে কখনো শ্বাস ধরে রাখা যোগ করবেন না
  • জ্বর, অম্বল বা খুব গরম দিনে বাদ দিন, কারণ এটি উষ্ণতা বাড়ায় বলে ধরা হয়
  • অস্থিরতা বা প্যানিক অ্যাটাক থাকলে ভালো বিকল্প নয়; বরং বাঁ নাসিকা শ্বাস বেছে নিন
  • গর্ভাবস্থায় শ্বাস ধরে রাখবেন না; অনুশীলনের আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন
  • এতে ঘুম না এলে সন্ধ্যার পরে এড়িয়ে চলুন

সম্পূর্ণ গাইড পড়ুন (ইংরেজিতে)

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

সূর্যভেদন প্রাণায়াম কী?

এটি ডান নাসিকা শ্বাস: প্রতিবার ডান নাক দিয়ে শ্বাস নেন আর বাঁ নাক দিয়ে ছাড়েন। এটি উষ্ণতা ও শক্তি জোগানো প্রাণায়াম।

সূর্যভেদনের উপকারিতা কী?

ঐতিহ্যগতভাবে শরীর গরম করতে, শক্তি বাড়াতে ও হজমে সাহায্যের জন্য এটি করা হয়। ছোট গবেষণা বলছে, ডান নাসিকা শ্বাস হৃৎস্পন্দন ও সতর্কতা সামান্য বাড়ায়।

কাদের সূর্যভেদন প্রাণায়াম করা উচিত নয়?

উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, মৃগী, জ্বর, অম্বল বা অস্থিরতায় এড়িয়ে চলুন। গর্ভাবস্থায় শ্বাস ধরে রাখা যোগ করবেন না।

ডান আর বাঁ নাসিকা শ্বাসের পার্থক্য কী?

ডান নাসিকা শ্বাস (সূর্যভেদন) শক্তি ও উষ্ণতা দেয়; বাঁ নাসিকা শ্বাস (চন্দ্রভেদন) শান্ত ও শীতল করে।

সূর্যভেদন করার সেরা সময় কখন?

সকালে খালি পেটে, বিশেষত ঠান্ডা আবহাওয়ায়। সন্ধ্যার পরে ও খাওয়ার পরে এড়িয়ে চলুন।

ডান নাসিকা শ্বাস কতক্ষণ অনুশীলন করা উচিত?

৯ রাউন্ড, প্রায় দেড় মিনিট দিয়ে শুরু করে ৩–৫ মিনিট পর্যন্ত বাড়ান। শক্তি জোগানো শ্বাসে বেশি মানেই ভালো নয়।

সূর্যভেদী আর সূর্যভেদন কি একই?

হ্যাঁ। সূর্যভেদী, সূর্যভেদ ও সূর্য নাড়ী প্রাণায়াম একই ডান-নাসিকা অনুশীলনের অন্য নাম, তাই উপকারিতাও একই।

ধীরে ও আলতোভাবে করলে শ্বাসের অনুশীলন বেশিরভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ। মাথা ঘুরলে, অস্থির লাগলে বা শ্বাসকষ্ট হলে থেমে যান। হৃদ্‌যন্ত্র বা ফুসফুসের রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, মৃগী থাকলে বা গর্ভাবস্থায় আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

আপনার ভাষা বেছে নিন