কীভাবে করবেন, ধাপে ধাপে
- সুখাসন, বজ্রাসন বা চেয়ারে আরাম করে বসুন। চোখ বন্ধ করে চোয়াল ও মুখ শিথিল করুন।
- দুই তর্জনী কানের ছিদ্রের সামনের ছোট তরুণাস্থির ঢাকনার (ট্র্যাগাস) ওপর রাখুন। বাকি আঙুল মাথা বা মুখে আলতো রাখুন।
- ঠোঁট আলতো বন্ধ, দাঁত সামান্য ফাঁক, আর জিভ নিচের দাঁতের পেছনে নরমভাবে রাখুন।
- নাক দিয়ে ধীরে ৪ গুনে শ্বাস নিন।
- ৮ গুনে শ্বাস ছাড়ার সময় তরুণাস্থি আলতো চেপে কান বন্ধ করুন এবং ভ্রমরের মতো মসৃণ, স্থির “ম্ম্ম্” শব্দ করুন।
- মাথা, মুখ ও গলায় কম্পন অনুভব করুন। গুঞ্জন নরম ও সমান রাখুন, জোর করবেন না।
- শুরুতে ৭ রাউন্ড করুন, তারপর হাত নামিয়ে এক মিনিট চুপচাপ বসে নীরবতা অনুভব করুন।
উপকারিতা
- দ্রুত মন শান্ত করে; অনেকে ঘুমের আগে বা চাপের সময় এটি করেন
- দীর্ঘ প্রশ্বাস শ্বাস ও হৃৎস্পন্দন ধীর করে, আর ছোট কিছু গবেষণায় রক্তচাপ স্বল্পমেয়াদে কমার কথা বলা হয়েছে
- গুঞ্জন নাকে নাইট্রিক অক্সাইডের মাত্রা বাড়ায়, যা সাইনাসে বায়ুপ্রবাহে সহায়ক হতে পারে
- নতুন ও শিশুদের জন্য সহজ; শ্বাস ধরে রাখা বা চাপ নেই
- মনোযোগ ভেতরের দিকে ফেরায়, তাই ধ্যান শুরুর ভালো উপায়
সতর্কতা
- কান আলতো চাপুন; কখনো কানের ছিদ্রের ভেতরে আঙুল ঢোকাবেন না
- কানে সংক্রমণ বা ব্যথা থাকলে এটি বাদ দিন
- গুঞ্জন নরম রাখুন এবং মাথা ঘোরা বা হালকা লাগলে থামুন
- মৃগী বা হৃদরোগ থাকলে অনুশীলন ছোট রাখুন এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিন
সম্পূর্ণ গাইড পড়ুন (ইংরেজিতে)
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ভ্রামরী প্রাণায়াম কী?
এটি ভ্রমর-গুঞ্জন শ্বাস: নাক দিয়ে ধীরে শ্বাস নিয়ে প্রশ্বাসের সময় দীর্ঘ, নরম গুঞ্জন, সাধারণত কান আলতো বন্ধ রেখে। এটি মন শান্ত করে ও শ্বাস ধীর করে।
ভ্রামরী কতবার করা উচিত?
নতুনরা ৫–৭ রাউন্ড করতে পারেন। অনুশীলনের সঙ্গে দিনে ৫–১০ মিনিট একটি সাধারণ লক্ষ্য। এই পাতার টাইমার ৭ রাউন্ড দিয়ে শুরু হয়।
উচ্চ রক্তচাপে কি ভ্রামরী ভালো?
শ্বাস ধরে রাখা নেই বলে উচ্চ রক্তচাপে এটি সবচেয়ে নিরাপদ শ্বাস-ব্যায়ামগুলোর একটি, আর ছোট গবেষণায় রক্তচাপ স্বল্পমেয়াদে কমতে দেখা গেছে। ওষুধ চালিয়ে যান ও ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
রাতে কি ভ্রমর-গুঞ্জন শ্বাস করা যায়?
হ্যাঁ। ঘুমের আগে শিথিল হওয়ার এটি ভালো উপায়। শুয়েও করতে পারেন।
ভ্রামরীতে আঙুল কোথায় রাখব?
তর্জনী রাখুন ট্র্যাগাসে, অর্থাৎ কানের সামনের ছোট ঢাকনায়। ষণ্মুখী মুদ্রার জন্য বাকি আঙুল চোখ, নাক ও ঠোঁটের ওপর আলতো রাখুন।
ভ্রামরীর কি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে?
খুবই কম। কান বা চোখে বেশি জোরে চাপলে বা খুব জোরে গুঞ্জন করলে অস্বস্তি হতে পারে। কানে সংক্রমণ থাকলে বাদ দিন।
শিশুরা কি ভ্রামরী প্রাণায়াম করতে পারে?
হ্যাঁ। শিশুরা গুঞ্জনের শব্দটা খুব উপভোগ করে। ছোট গুঞ্জনে ৩–৫ রাউন্ডেই সীমিত রাখুন।
ভ্রামরী প্রাণায়াম করলে কী উপকার হয়?
মানসিক চাপ কমে, রাগ শান্ত হয় এবং ঘুম ভালো হয়। এটি সহজ এবং নতুনসহ বেশিরভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ।
ধীরে ও আলতোভাবে করলে শ্বাসের অনুশীলন বেশিরভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ। মাথা ঘুরলে, অস্থির লাগলে বা শ্বাসকষ্ট হলে থেমে যান। হৃদ্যন্ত্র বা ফুসফুসের রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, মৃগী থাকলে বা গর্ভাবস্থায় আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
