1. হোম
  2. প্রাণায়াম
  3. ভস্ত্রিকা (হাপর শ্বাস)

ভস্ত্রিকা প্রাণায়াম (হাপর শ্বাস): কীভাবে করবেন, উপকারিতা ও নিরাপত্তা

ভস্ত্রিকা হলো নাক দিয়ে জোরালো শ্বাস নেওয়া ও ছাড়া, ঠিক কামারের হাপরের মতো। ওপরের টাইমার প্রতি রাউন্ডে ২০টি শ্বাস গোনে, তারপর ২০ সেকেন্ড বিশ্রাম দেয়।

Seated breathing posture
Ready

Bhastrika timer

Strong, equal breaths in and out through the nose, about one per second, like a bellows. Both the inhale and the exhale are active.

কীভাবে করবেন, ধাপে ধাপে

  1. খালি পেটে সুখাসন, বজ্রাসন বা পদ্মাসনে বসুন। মেরুদণ্ড সোজা ও মাথা সমান্তরাল রাখুন।
  2. হাত জ্ঞান মুদ্রায় হাঁটুর ওপর রাখুন, অথবা হাত-সহ সংস্করণ করলে কাঁধের কাছে আলগা মুঠি করুন।
  3. কয়েকবার ধীরে শ্বাস নিন। তারপর নাক দিয়ে জোরে শ্বাস নিন, পেট ও বুক ফুলতে দিন।
  4. একই জোরে নাক দিয়ে শ্বাস ছাড়ুন, পেট ভেতরে টানুন। শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার জোর ও দৈর্ঘ্য সমান।
  5. টাইমারের প্রতি গোনায় প্রায় একটি পূর্ণ শ্বাসের স্থির ছন্দ রাখুন: শুরুতে প্রতি রাউন্ডে ২০টি শ্বাস। শুধু শ্বাস চলবে; কাঁধ ও মুখ শিথিল রাখুন।
  6. শেষ শ্বাসের পর ২০ সেকেন্ডের বিশ্রামে নাক দিয়ে ধীরে শ্বাস নিন, যতক্ষণ না শ্বাস আবার শান্ত হয়।
  7. ৩ রাউন্ড করুন, তারপর চুপচাপ বসুন বা কয়েক মিনিট অনুলোম বিলোম করুন।

উপকারিতা

  • শরীর গরম করে ও শক্তি জোগায়; সকালে জেগে ওঠার ভালো উপায়
  • ডায়াফ্রাম ও শ্বাসের পেশিকে প্রশিক্ষণ দেয়; যোগ-শ্বাসের ছোট কিছু গবেষণায় ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ভালো হওয়ার কথা বলা হয়েছে
  • সর্দির সময় বন্ধ নাক খুলতে সাহায্য করতে পারে
  • পরে কিছুক্ষণের জন্য সতর্কতা ও মনোযোগ বাড়ায়

সতর্কতা

  • উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোকের ইতিহাস, মৃগী বা গ্লুকোমা থাকলে করবেন না
  • গর্ভাবস্থায়, হার্নিয়ায়, অথবা পেট, বুক, চোখ বা কানের সাম্প্রতিক অস্ত্রোপচারের পর নয়
  • প্যানিক অ্যাটাক হলে বা অস্থির লাগলে এড়িয়ে চলুন; দ্রুত শ্বাস আতঙ্ক জাগাতে পারে
  • মাথা ঘোরা, হাতে ঝিনঝিন, বুকে ব্যথা বা মাথাব্যথা হলে সঙ্গে সঙ্গে থামুন
  • শুধু খালি পেটে: খাওয়ার পর ৩–৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন

সম্পূর্ণ গাইড পড়ুন (ইংরেজিতে)

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ভস্ত্রিকা প্রাণায়াম কী?

এটি হাপর শ্বাস: স্থির ছন্দে নাক দিয়ে জোরালো, সমান শ্বাস নেওয়া ও ছাড়া। এটি শরীর গরম করে ও শক্তি জোগায়।

ভস্ত্রিকা প্রাণায়াম কতবার করা উচিত?

নতুনরা ১০–২০ শ্বাসের ২–৩ রাউন্ড করতে পারেন, প্রতি রাউন্ডের পর বিশ্রাম নিয়ে। দিনে একবার, সকালে করাই যথেষ্ট।

ভস্ত্রিকা প্রাণায়াম আর কপালভাতির পার্থক্য কী?

হাপর শ্বাসে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়া দুটোই জোরালো। কপালভাতিতে শুধু প্রশ্বাস সক্রিয়, শ্বাস নেওয়া নিষ্ক্রিয়।

উচ্চ রক্তচাপে ভস্ত্রিকা প্রাণায়াম কি নিরাপদ?

না। উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগ থাকলে এটি এড়িয়ে চলুন। ভ্রামরী বা অনুলোম বিলোমের মতো ধীর শ্বাস বেশি নিরাপদ।

খাওয়ার পর কি ভস্ত্রিকা প্রাণায়াম করা যায়?

না। খাওয়ার পর ৩–৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। ভরা পেটে পেটের জোরালো নড়াচড়া অস্বস্তিকর এবং রিফ্লাক্স ঘটাতে পারে।

হাপর শ্বাসের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী?

মাথা ঘোরা, ঝিনঝিন, মাথাব্যথা বা অস্থিরতা, সাধারণত খুব দ্রুত বা বেশিক্ষণ করার ফলে। গতি কমান, বিশ্রাম নিন এবং কম রাউন্ড করুন।

গর্ভাবস্থায় কি ভস্ত্রিকা নিরাপদ?

না। গর্ভাবস্থায় দ্রুত ও জোরালো শ্বাস এড়িয়ে চলুন। কোমল, ধীর শ্বাস ভালো বিকল্প; মিডওয়াইফ বা ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

ভস্ত্রিকা প্রাণায়াম করলে কী উপকার হয়?

শরীরে শক্তি আসে, শরীর গরম হয় এবং শ্বাসের পেশি মজবুত হয়। উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, মৃগী বা গর্ভাবস্থায় এটি উপযুক্ত নয়।

ধীরে ও আলতোভাবে করলে শ্বাসের অনুশীলন বেশিরভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ। মাথা ঘুরলে, অস্থির লাগলে বা শ্বাসকষ্ট হলে থেমে যান। হৃদ্‌যন্ত্র বা ফুসফুসের রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, মৃগী থাকলে বা গর্ভাবস্থায় আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

আপনার ভাষা বেছে নিন