কীভাবে করবেন, ধাপে ধাপে
- সুখাসন, সিদ্ধাসন বা চেয়ারে সোজা হয়ে বসুন। মেরুদণ্ড লম্বা, থুতনি সমান্তরাল আর কাঁধ নরম রাখুন।
- বাঁ হাত চিন মুদ্রায় হাঁটুর ওপর রাখুন। ডান হাত নাসাগ্র মুদ্রায় আনুন: তর্জনী ও মধ্যমার ডগা দুই ভুরুর মাঝে আলতো রাখুন, বুড়ো আঙুল ডান নাকের পাশে, অনামিকা বাঁ নাকের পাশে।
- বুড়ো আঙুল দিয়ে ডান নাক বন্ধ করে বাঁ নাক দিয়ে ৪ গুনে শ্বাস নিন।
- দুই নাক বন্ধ করে ৪ গুনে আলতো করে শ্বাস ধরে রাখুন, মুখে বা গলায় কোনো চাপ ছাড়া।
- বুড়ো আঙুল সরিয়ে ডান নাক দিয়ে ধীরে ৮ গুনে শ্বাস ছাড়ুন।
- ডান নাক দিয়ে ৪ গুনে নিন, ৪ গুনে ধরে রাখুন, বাঁ নাক দিয়ে ৮ গুনে ছাড়ুন। এতে এক পূর্ণ চক্র হয়; টাইমারের লেবেল প্রতিটি দিক দেখায়।
- শুরুতে ৯ রাউন্ড করুন (প্রায় আড়াই মিনিট), তারপর হাত নামিয়ে এক মিনিট স্বাভাবিক শ্বাস নিন, তারপর চোখ খুলুন।
উপকারিতা
- দীর্ঘ প্রশ্বাস হৃৎস্পন্দন ধীর করতে ও মন স্থির করতে সাহায্য করে
- ধীর পর্যায়ক্রমিক নাসিকা শ্বাসের গবেষণা বলছে, এটি স্বল্পমেয়াদে রক্তচাপ ও মানসিক চাপ কমাতে পারে
- স্থির, নিয়ন্ত্রিত শ্বাস আর দীর্ঘ মনোযোগের অভ্যাস গড়ে
- আসন থেকে ধ্যান বা ঘুমে যাওয়ার এক ভালো সেতু
- ঐতিহ্যগতভাবে বলা হয়, এটি শক্তির পথ (নাড়ী) পরিষ্কার ও ভারসাম্যপূর্ণ করে
সতর্কতা
- উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, গ্লুকোমা বা গর্ভাবস্থায় শ্বাস ধরে রাখা বাদ দিন; “Hold” পর্বে স্বাভাবিক শ্বাস নিন বা অনুলোম বিলোম টাইমার ব্যবহার করুন
- চাপ, মাথায় ভার বা আতঙ্ক লাগা পর্যন্ত কখনো শ্বাস ধরে রাখবেন না
- হাঁপানি বা COPD থাকলে গোনা ছোট রাখুন এবং ইনহেলার কাছে রাখুন
- মাথা ঘোরা, হালকা লাগা বা অস্থিরতা হলে থামুন এবং স্বাভাবিক শ্বাস নিন
সম্পূর্ণ গাইড পড়ুন (ইংরেজিতে)
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
নাড়ী শোধন প্রাণায়াম কী?
এটি অল্প শ্বাস ধরে রাখা ও দীর্ঘ প্রশ্বাস সহ পর্যায়ক্রমিক নাসিকা শ্বাস। নামের অর্থ “নাড়ী শুদ্ধি”। ধ্যান বা ঘুমের আগে মন শান্ত করতে এটি করা হয়।
নাড়ী শোধনের সেরা অনুপাত কী?
নতুনরা ১:১:২ অনুপাত নিতে পারেন, যেমন ৪ নেওয়া, ৪ ধরে রাখা, ৮ ছাড়া; এই পাতার টাইমার এটাই ব্যবহার করে। ঐতিহ্যগত ১:৪:২ অনুপাত অভিজ্ঞদের জন্য, গাইডেন্সে।
নাড়ী শোধন আর অনুলোম বিলোম কি একই?
দুটি খুব কাছাকাছি। অনুলোম বিলোম সাধারণত শ্বাস ধরে রাখা ছাড়া শেখানো হয়; নাড়ী শোধন, যাকে নাড়ী শুদ্ধিও বলে, প্রায়ই শ্বাস ধরে রাখা ও দীর্ঘ প্রশ্বাস সহ করা হয়।
উচ্চ রক্তচাপে কি নাড়ী শোধন করা যায়?
হ্যাঁ, তবে শ্বাস ধরে না রেখে। পর্যায়ক্রমে দুই নাক দিয়ে ধীরে শ্বাস নিন ও ছাড়ুন, ওষুধ খেতে থাকুন এবং ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
নাড়ী শোধন কতক্ষণ করা উচিত?
৩–৫ মিনিট দিয়ে শুরু করে দিনে ১০–১৫ মিনিট পর্যন্ত বাড়ান। সকালে খালি পেটে বা সন্ধ্যায় ঘুমের আগে, দুটোই ভালো।
নাড়ী শোধন প্রাণায়ামের উপকারিতা ও নিষেধ কী?
উপকারিতার মধ্যে আছে শান্ত মন, ধীর শ্বাস এবং সম্ভবত কম রক্তচাপ। উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, গ্লুকোমা বা গর্ভাবস্থায় শ্বাস ধরে রাখবেন না, আর মাথা ঘুরলে থামুন।
শুয়ে কি নাড়ী শোধন প্রাণায়াম করা যায়?
হ্যাঁ, বসা সম্ভব না হলে। শ্বাস ধরে রাখা বাদ দিন এবং শ্বাস ধীর ও নিঃশব্দ রাখুন।
সংক্ষেপে নাড়ী শোধন প্রাণায়াম কীভাবে করবেন?
সোজা হয়ে বসুন, ডান নাক বন্ধ করে বাঁ নাক দিয়ে ৪ গুনে শ্বাস নিন, ৪ গুনে ধরে রাখুন, ডান নাক দিয়ে ৮ গুনে ছাড়ুন, তারপর উল্টো দিকে করুন। ওপরের ধাপগুলোতে বিস্তারিত দেওয়া আছে।
ধীরে ও আলতোভাবে করলে শ্বাসের অনুশীলন বেশিরভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ। মাথা ঘুরলে, অস্থির লাগলে বা শ্বাসকষ্ট হলে থেমে যান। হৃদ্যন্ত্র বা ফুসফুসের রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, মৃগী থাকলে বা গর্ভাবস্থায় আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
