এই চক্র নিয়ে কীভাবে অনুশীলন করবেন
- কয়েক মিনিট কোমল আসনে শরীর আলগা করুন, তারপর দেওয়ালে পা তুলে (বিপরীত করণী) বিশ্রাম নিন।
- একটি স্থির বসার আসনে বসুন, হাত ধ্যান মুদ্রায়, ডান হাত বাঁ হাতের ওপর।
- দুই মিনিট ত্রি-স্তরীয় শ্বাসে ধীরে শ্বাস নিন, তারপর শ্বাসকে স্বাভাবিক হতে দিন।
- মাথার শীর্ষে মনোযোগ আনুন এবং একটি কোমল বেগুনি বা সাদা আলো কল্পনা করুন।
- কয়েকবার কোমলভাবে ওঁ জপ করুন, তারপর তা নীরবতায় মিলিয়ে যেতে দিন।
- পাঁচ মিনিট বা তার বেশি সময় কোনো প্রচেষ্টা ছাড়া উন্মুক্ত, শান্ত সচেতনতায় বিশ্রাম নিন।
- ওঠার আগে আসন ও পায়ের পাতা অনুভব করে আবার নিজেকে মাটির সঙ্গে যুক্ত করুন।
ভারসাম্যের লক্ষণ
- অর্থ ও সংযোগের এক শান্ত বোধ
- ধারণা আঁকড়ে না ধরে সেগুলোর প্রতি উন্মুক্ততা
- সবকিছু না জানার সঙ্গে শান্তিতে থাকা
- দৈনন্দিন জীবনে গভীর স্থিরতার মুহূর্ত
ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ (প্রচলিত মত)
- বিচ্ছিন্ন বোধ করা বা জীবনের অর্থ নেই মনে হওয়া
- অনমনীয় বিশ্বাস, বা আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার পেছনে ছোটা
- “আনমনা” লাগা এবং মাটিতে ফিরতে কষ্ট হওয়া
- শরীর ও দৈনন্দিন কর্তব্য অবহেলা করা
সম্পূর্ণ গাইড পড়ুন (ইংরেজিতে)
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
সহস্রার চক্র উন্মুক্ত হলে কী হয়?
ঐতিহ্যগত গ্রন্থে শিব ও শক্তির মিলন, মুক্তি (মোক্ষ) এবং জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তির বর্ণনা আছে। এগুলো আধ্যাত্মিক বর্ণনা, পরিমাপযোগ্য ঘটনা নয়। দৈনন্দিন অনুশীলনে মানুষ বেশি বলেন গভীর স্থিরতার মুহূর্ত ও আত্মবোধের এক শান্ত অনুভূতির কথা।
সহস্রার চক্রের ঐতিহ্যগত শক্তি কী?
গ্রন্থ বলে যিনি মুকুটে পৌঁছান তিনি মুক্ত এবং আর জন্ম-মৃত্যুতে বাঁধা নন। ঐতিহ্য এও বলে যে এই কেন্দ্রে প্রচেষ্টা দিয়ে কাজ হয় না, স্থিরতায় এটি প্রকাশিত হয়, তাই শক্তির পেছনে ছোটাকে বিক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়।
মুকুট চক্র অবরুদ্ধ কিনা কীভাবে বুঝব?
ঐতিহ্য ইঙ্গিত করবে জীবনের অর্থ নেই মনে হওয়া, অনমনীয় বিশ্বাস, অথবা উল্টোটা: আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার পেছনে ছুটে দৈনন্দিন জীবন অবহেলা করা। দীর্ঘস্থায়ী মন খারাপ বা জীবনের অর্থ হারানো বিষণ্ণতার লক্ষণও হতে পারে, যার জন্য ডাক্তারের যথাযথ যত্ন প্রয়োজন। ঐতিহ্যগত অর্থে মুকুট চক্রের নিরাময়ে একটি ছোট দৈনিক অনুশীলন রাখুন এবং মাটির সঙ্গে যুক্ত থাকুন।
মুকুট চক্রের ধ্যান কতক্ষণ হওয়া উচিত?
বেশিরভাগ মানুষের জন্য দিনে দশ থেকে কুড়ি মিনিটই যথেষ্ট। কয়েক মিনিট শ্বাস দিয়ে শুরু করুন, বেশিরভাগ সময় শান্ত সচেতনতায় কাটান, এবং সবসময় শরীরে মনোযোগ ফিরিয়ে শেষ করুন।
মুকুট চক্র ও তৃতীয় নয়নের মধ্যে পার্থক্য কী?
তৃতীয় নয়নকে (আজ্ঞা) মনের কেন্দ্র বলা হয়, যেখানে একাগ্র মনোযোগের চর্চা হয়। মুকুটকে (সহস্রার) মনের ঊর্ধ্বের চেতনা বলা হয়, যেখানে সেই প্রচেষ্টা ছেড়ে দিয়ে পৌঁছানো যায়।
উদ্বেগ থাকলে কি মুকুট চক্রের ধ্যান করতে পারি?
উদ্বেগে ভোগা অনেকে কোমল ধ্যানকে উপকারী পান, তবে বৈঠক ছোট রাখুন, অস্থির লাগলে চোখ সামান্য খোলা রাখুন এবং মাটির সঙ্গে সংযোগে মন দিন। সাইকোসিস বা ডিসোসিয়েশনের ইতিহাস থাকলে আগে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
চক্র ও কুণ্ডলিনীর ধারণা এসেছে যোগ ও তন্ত্রের ঐতিহ্য থেকে। এগুলি শরীরের কোনো শারীরবৃত্তীয় অঙ্গ নয় এবং এই বর্ণনাগুলি কোনো চিকিৎসাগত দাবি নয়। আলতোভাবে অনুশীলন করুন এবং অস্বস্তি হলে থেমে যান।
