কীভাবে করবেন, ধাপে ধাপে
- মেঝে বা চেয়ারে মেরুদণ্ড সোজা রেখে বসুন, বাঁ হাত বাঁ হাঁটুর ওপর রাখুন।
- ডান হাত তুলুন এবং তর্জনী ও মধ্যমা তালুতে ভাঁজ করুন। বুড়ো আঙুল, অনামিকা ও কড়ে আঙুল খোলা রাখুন।
- হাত মুখের কাছে আনুন: বুড়ো আঙুল ডান নাসারন্ধ্রের পাশে, অনামিকা (পাশে কড়ে আঙুল সহ) বাঁ নাসারন্ধ্রের পাশে।
- বুড়ো আঙুলে আলতো করে ডান নাসারন্ধ্র বন্ধ করে বাঁ দিক দিয়ে শ্বাস নিন; অনামিকায় বাঁ দিক বন্ধ করে ডান দিক খুলুন এবং শ্বাস ছাড়ুন।
- পুরো অনুশীলনে ধীরে পালা করে চালিয়ে যান, শুধু নাকের নরম পাশে চাপ দিয়ে, তারপর হাত নামিয়ে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিন।
উপকারিতা
- ঐতিহ্যগতভাবে অনুলোম-বিলোম ও নাড়ি শোধন প্রাণায়ামের হাতের ভঙ্গি হিসেবে ব্যবহৃত
- ঐতিহ্যগতভাবে আঙুল চোখ ও কপাল থেকে দূরে রাখতে ব্যবহৃত, যাতে মুখ শিথিল থাকে
- যোগতত্ত্বে ঐতিহ্যগতভাবে বাঁ ও ডান নাসারন্ধ্রের (ইড়া ও পিঙ্গলা) ভারসাম্যে ব্যবহৃত
- ঐতিহ্যগতভাবে ধীর, শান্ত শ্বাস-অনুশীলনকে স্থির ও সহজে পুনরাবৃত্তিযোগ্য করতে ব্যবহৃত
সতর্কতা
- শুধু নাকের নরম পাশে চাপ দিন, কখনো হাড়ে নয়, আর চাপ হালকা রাখুন।
- হাত ক্লান্ত হলে মাথা ঝুঁকে পড়তে না দিয়ে বাঁ হাত বা কুশন দিয়ে ডান কনুইয়ে ঠেস দিন।
- উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা গর্ভাবস্থায় শ্বাস জোর করবেন না বা ধরে রাখবেন না; ছন্দ কোমল রাখুন এবং ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
- নাক বন্ধ থাকলে সেদিন নাসিকা বদলে শ্বাস বাদ দিন, অথবা দুই নাক দিয়েই শ্বাস নিন।
সম্পূর্ণ গাইড পড়ুন (ইংরেজিতে)
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
বিষ্ণু মুদ্রা কী?
বিষ্ণু মুদ্রা হলো নাসিকা বদলে শ্বাস নেওয়ার হাতের ভঙ্গি: ডান হাতে তর্জনী ও মধ্যমা তালুতে ভাঁজ হয়, বুড়ো আঙুল ডান নাসারন্ধ্র আর অনামিকা বাঁ নাসারন্ধ্র বন্ধ করে।
বিষ্ণু মুদ্রা কীভাবে তৈরি করবেন?
ডান হাত: তর্জনী ও মধ্যমা তালুতে ভাঁজ করুন, বুড়ো আঙুল, অনামিকা ও কড়ে আঙুল খোলা রাখুন। বুড়ো আঙুল ডান নাসারন্ধ্রে, অনামিকা বাঁ নাসারন্ধ্রে।
বিষ্ণু মুদ্রায় কোন হাত ব্যবহার করা হয়?
ঐতিহ্যগতভাবে ডান হাত। বাঁহাতি মানুষ বা যাঁর ডান হাতে চোট আছে, তাঁরা বাঁ হাত ব্যবহার করতে পারেন; শ্বাস-অনুশীলন একইভাবে কাজ করে।
বিষ্ণু মুদ্রা ও নাসাগ্র মুদ্রার পার্থক্য কী?
বিষ্ণু মুদ্রায় তর্জনী ও মধ্যমা তালুতে ভাঁজ হয়। নাসাগ্র মুদ্রায় সেগুলো দুই ভুরুর মাঝখানে রাখা হয়। দুটিই নাসিকা বদলে শ্বাস নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত।
বিষ্ণু মুদ্রার উপকারিতা কী কী?
বিষ্ণু মুদ্রার উপকারিতা আসে এর মাধ্যমে করা নাসিকা বদলে শ্বাস থেকে: ধীর শ্বাস, শান্ত মন এবং কারও কারও ক্ষেত্রে মানসিক চাপ ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা।
নাসিকা বদলে শ্বাস কতক্ষণ করা উচিত?
৫–১০ রাউন্ড দিয়ে শুরু করুন, তারপর দিনে ৫–১০ মিনিট পর্যন্ত বাড়ান। শ্বাস ধীর রাখুন এবং কখনো জোর করবেন না।
মুদ্রা মনোযোগ ও বিশ্রামের জন্য একটি প্রাচীন অনুশীলন। নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে গবেষণা সীমিত; চিকিৎসার পাশাপাশি করুন, চিকিৎসার বদলে নয়।