কীভাবে করবেন, ধাপে ধাপে
- স্থির ভঙ্গিতে সোজা হয়ে বসুন: আসনপিঁড়ি হয়ে, হাঁটু গেড়ে, বা মেঝেতে পা সমান রেখে চেয়ারে।
- বাঁ হাত কোলে রাখুন, তালু উপরের দিকে।
- ডান হাতের পিঠ বাঁ তালুর উপর রাখুন, এটিও উপরের দিকে, যাতে দুই হাতের আঙুল একটির উপর আরেকটি থাকে।
- বুড়ো আঙুল শিথিল রেখে একটু আলাদা হতে দিন; ছোঁয়ানোর দরকার নেই।
- চোখ বন্ধ করে শ্বাস ধীর ও নিঃশব্দ হতে দিন। ভৈরবী মুদ্রার জন্য হাত বদলে বাঁ হাত উপরে রাখুন।
- ১০–৩০ মিনিট থাকুন, তারপর হাত খুলে তালু ঘষে চোখ খুলুন।
উপকারিতা
- ধ্যান ও প্রাণায়ামের হাতের ভঙ্গি হিসেবে প্রচলিতভাবে ব্যবহৃত
- স্থিরতা ও ভারসাম্যের অনুভূতির জন্য প্রচলিতভাবে ব্যবহৃত
- প্রচলিত মতে শরীরের দুই দিক এবং দুই প্রধান নাড়ি (ইড়া ও পিঙ্গলা) একত্র করে
- মনোযোগ অন্তর্মুখী করতে এবং কাঁধ ও বাহু শিথিল করতে প্রচলিতভাবে ব্যবহৃত
সতর্কতা
- মুদ্রা চিকিৎসার বিকল্প নয়। নির্ধারিত ওষুধ চালিয়ে যান এবং যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় ডাক্তার দেখান।
- কাঁধ সামনের দিকে টানলে হাত উঁচু করতে কোলে একটি কুশন বা ভাঁজ করা কম্বল রাখুন।
সম্পূর্ণ গাইড পড়ুন (ইংরেজিতে)
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ভৈরব মুদ্রা কী?
ভৈরব মুদ্রা ধ্যানের একটি হাতের ভঙ্গি: দুই তালু উপরে রেখে কোলে ডান হাত বাঁ হাতের উপর থাকে। শিবের উগ্র রূপ ভৈরবের নামে এর নাম।
ভৈরব মুদ্রার প্রধান উপকারিতা কী?
প্রচলিতভাবে এটি ধ্যান, স্থিরতা এবং শরীরের দুই দিকের ভারসাম্যে সহায়তা করে। এ নিয়ে কোনো ক্লিনিক্যাল গবেষণা নেই; ধীর শ্বাস আর শান্তভাবে বসাই আসলে সাহায্য করে।
ভৈরব আর ভৈরবী মুদ্রার পার্থক্য কী?
শুধু উপরের হাতটি বদলায়। ডান হাত উপরে থাকলে ভৈরব; বাঁ হাত উপরে থাকলে ভৈরবী।
ভৈরব মুদ্রা আর ধ্যান মুদ্রার পার্থক্য কী?
হাত একইভাবে থাকে, তবে ধ্যান মুদ্রায় দুই বুড়ো আঙুলের ডগা ছুঁয়ে একটি ডিম্বাকার তৈরি করে। ভৈরব মুদ্রায় বুড়ো আঙুল শিথিল থাকে।
ভৈরব মুদ্রা কতক্ষণ ধরে রাখা উচিত?
লম্বা সময় বসার জন্য এটি উপযুক্ত: ১০–৩০ মিনিট ধ্যান বা প্রাণায়াম।
ভৈরব মুদ্রা কি চুল গজাতে সাহায্য করে?
এর কোনো প্রমাণ নেই। চুল পড়লে আয়রনের ঘাটতি বা থাইরয়েডের মতো কারণ খুঁজতে ডাক্তার বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ দেখান।
মুদ্রা মনোযোগ ও বিশ্রামের জন্য একটি প্রাচীন অনুশীলন। নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে গবেষণা সীমিত; চিকিৎসার পাশাপাশি করুন, চিকিৎসার বদলে নয়।